প্রকল্প গ্রহণে প্রকৌশলীদেরকে দেশ ও মানুষকে বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১১ মে, ২০২৪ ১৪:০১  

যেকোন প্রকল্প গ্রহণের আগে দেশ ও মানুষের কাজে লাগবে কিনা এবং সেটি লাভজনক হবে কিনা তা বিবেচনায় নিতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১১ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) ৬১তম কনভেনশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘প্রকৌশল ও প্রযুক্তির জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ’ মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইইবির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এস.এম. মঞ্জুরুল হক মঞ্জু এবং আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে উপস্থিত প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক, সেটা পরিবেশবান্ধব হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। সেই লক্ষ্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে খরচের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রকল্প থেকে জনগণ কি পাবে এবং তা থেকে রিটার্ন কি হবে- এগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। শুধু নির্মাণের জন্য নির্মাণ করা যাবে না। আমি সংসদে সবাইকে সেটি বলেছি। তা না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।’

প্রকৌশলীদের গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকতায় আরও এগিয়ে যেতে প্রকৌশলীদের যে উদ্ভাবনী শক্তি, মেধা আছে- সেটা কীভাবে দেশের কাজে লাগাতে পারি তাতে নজর দিতে হবে।’

দেশের উন্নয়ন অনেকের ভালো লাগে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী আছে, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। পদ্মা সেতুর সুফল মানুষ ভোগ করছে, মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে। এটা তারা মেনে নিতে পারছে না।’

‘স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আগে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য ডলার খরচ করে বিদেশে থেকে সংযোগ নিতে হতো। আজ তা লাগে না। দুর্গম এলাকায় আমরা সংযোগ করতে পারছি। গভীর সমুদ্রসীমা দেখভাল করতে পারছি। দ্বিতীয়বার যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে, সেটি আরও বিস্তৃত সেবা দিতে পারবে।’ - যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র যেটি পরিবেশ দূষণ করে না। এসব আধুনিক প্রযুক্তিতে কেন যুক্ত হব না? পিছিয়ে থাকব? যারা এর সমালোচনা করে তারা গাড়িতে উঠে কেন? প্লেনে উঠে কেন? গরুর গাড়িতে চড়ে না কেন?’

প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কে কি বলল তাতে কিছু যায় আসে না। সাধারণ মানুষ ভালো আছে কিনা, তাদের উন্নতি হচ্ছে কিনা সেটি দেখার বিষয়। আপনারাও আপনাদের প্রত্যেকটি কাজে তৃনমূল মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে কিনা- সেটিতে নজর দেবেন।’

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী সবুর খান বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পরমুখাপেক্ষী না হয়ে দেশের মানুষের অপার সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে স্বল্পমূল্যে আমরা দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবো। উন্নয়নের মূলমন্ত্রে দীক্ষ জাতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র যে পথ দেখাচ্ছে তার নেতৃত্বে নিকট ভবিষ্যতে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতি আমাদের অজেয় করে তুলবে।

প্রকৌশলীদের দেশের উন্নয়নের চালিকা শক্তি উল্লেখ করে এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রকৌশল উইং গঠন করে দক্ষ, চৌকস প্রকৌশলীদের নিয়োগ করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের মনিটরিং ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইইবি সভাপতি।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন বলেছেন, সল্পন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের অনন্য অর্জনের চূড়ান্ত সুপারিশে প্রকৌশলীদের অবদান রয়েছে। বিশ্বায়নের এই সময়ে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল জ্ঞানের বিকাশ ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। একজন স্থপতি উন্নয়নের মডেল তৈরি করেন আর সেই মডেল বাস্তবে রূপান্তর করেন একজন প্রকৌশলী। সেই অর্থে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের অবকাঠামোর নির্মাণ কর্মী। কিন্তু ইতিমধ্যে পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা প্রকৌশল শিক্ষা বিমুখ হচ্ছে এবং যারা এই পেশায় আছেন তারাও দূরে সরে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রকৌশলীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দেশের উন্নয়নে তাদের অবদানের কথা মাথায় রেখেই তিনি যাচাই বাছাই পূর্বক পূরণের ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের প্রকৌশলী, কেন্দ্র, উপকেন্দ্র, প্রকৌশল বিভাগ এবং এএমআইই পরীক্ষার স্নাতকদের হাতে স্বর্ণপদক ও সনদসহ পুরস্কার তুলে দেন।